Home icon
Login

অনুসরণ করুন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on

Google Play

Download on the

App Store


অর্থ ও বাণিজ্য

দেশে প্রথম ইনডোরে ইলিশ চাষ: ৪৩০ কোটি টাকার যৌথ বিনিয়োগে প্রাণ-আরএফএলের বড় উদ্যোগ

প্রতিবেদক: জেলা বার্তা পরিবেশক

আপডেট: ২৫ দিন আগে

Facebook
Twitter

Article Image

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দেশের জাতীয় মাছ ইলিশের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারেএমন এক যুগান্তকারী পদক্ষেপে প্রথমবারের মতো দেশে বাণিজ্যিকভাবে কৃত্রিম পরিবেশে (ইনডোর) ইলিশ চাষের পরিকল্পনা নিয়েছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ।


উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর এই অ্যাকুয়াকালচার বা মাছ চাষ প্রকল্পের জন্য ডেনমার্কের অ্যাসেন্টোফট অ্যাকুয়া লিমিটেডের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে দেশের শীর্ষস্থানীয় এই শিল্পগোষ্ঠী। প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হবে ৩ কোটি ইউরো বা প্রায় ৪৩০ কোটি টাকা।

ইলিশের পাশাপাশি এশিয়ান সিবাস (কোরাল) ও অন্যান্য সামুদ্রিক মাছও চাষ করা হবে এই অত্যাধুনিক ইনডোর ব্যবস্থায়। বৃহস্পতিবার প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ ও অ্যাসেনটোফট অ্যাকুয়ার মধ্যে এ সংক্রান্ত একটি চুক্তি সই হয়।

প্রকল্পটি চট্টগ্রামের মীরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল অথবা উভয় পক্ষের সম্মতিতে নির্ধারিত অন্য কোনো উপযুক্ত স্থানে স্থাপন করা হবে। আগামী দুই বছরে দুই থেকে তিন ধাপে পুরো বিনিয়োগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশের সঙ্গে জড়িয়ে আছে গভীর আবেগ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। আন্তর্জাতিক বাজারেও এর কদর অনেক, দামও চড়া। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে ইলিশের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু প্রাকৃতিক উৎসের ওপর নির্ভরশীলতা, নদী ব্যবস্থার পরিবর্তন এবং মৌসুমি নিষেধাজ্ঞার কারণে ইলিশ রপ্তানি সীমিত। দেশের বাজারেও চড়া দামেও অনেক সময় ইলিশ পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়ে।

মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইলিশের সামগ্রিক উৎপাদন বাড়লেও রপ্তানিযোগ্য মানসম্মত ইলিশের ঘাটতি রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে ইলিশ চাষ সফল হলে তা এ খাতে বড় ধরনের সাফল্য বয়ে আনবে।

প্রাণ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াছ মৃধা বলেন, 'সুস্বাদু সামুদ্রিক মাছের ক্রমবর্ধমান দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে দেশে অত্যাধুনিক আরএএস পদ্ধতিতে এসব মাছ চাষ করতে চায় প্রাণ গ্রুপ। অ্যাসেনটোফ্ট অ্যাকুয়া উন্নত দেশগুলোতে ইতোমধ্যে স্বল্প জায়গায় এই প্রযুক্তির মাধ্যমে শিল্প পর্যায়ে মাছ চাষ করছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো শিল্প পর্যায়ে সিবাস উৎপাদন শুরু হবে।'

আরএএস প্রযুক্তিতে কীভাবে হবে ইলিশ চাষ

আরএএস বা রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম হলো একটি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত ইনডোর মাছ চাষ পদ্ধতি, যেখানে পানির গুণগত মান, তাপমাত্রা, অক্সিজেন, লবণাক্ততা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তিগতভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। একই পানি পরিশোধন করে বারবার ব্যবহার করা হয় বলে পানির ব্যবহার কমে যায় এবং রোগের ঝুঁকিও তুলনামূলকভাবে কম থাকে।

এই প্রকল্পে ব্রুডস্টক ব্যবস্থাপনা, হ্যাচারি ও নার্সারি সুবিধাসহ পুরো উৎপাদন চেইন স্থাপন করা হবে। প্রতিটি মাছের লক্ষ্যমাত্রা ওজন ধরা হয়েছে ১,২০০ থেকে ১,৫০০ গ্রাম। প্রকল্পটি পূর্ণ বাস্তবায়নের পর বছরে প্রায় ২ হাজার মেট্রিক টন মাছ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যার একটি বড় অংশ রপ্তানি করা হবে।

ইলিশ মাছ চাষ কি আদৌ সম্ভব?

ইলিশ মূলত অভিবাসী (মাইগ্রেটরি) মাছ হওয়ায় দীর্ঘদিন এটি চাষের বাইরে ছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারে পরীক্ষামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে ইলিশ পালনের গবেষণা চলছে। বাণিজ্যিক পর্যায়ে বড় আকারের উৎপাদন এখনও বিরল, যা প্রাণ-আরএফএল ও অ্যাসেনটোফট অ্যাকুয়ার এই উদ্যোগকে বৈশ্বিকভাবে ব্যতিক্রমী করে তুলছে।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) একজন জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ড. আমিরুল ইসলাম দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, 'ইলিশ চাষ বৈজ্ঞানিকভাবে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ইলিশের জীবনচক্র ও প্রজনন আচরণ নিয়ন্ত্রণ করা। এই মাছ চাষের এখনো পর্যন্ত সফল রেকর্ডও নেই।'

তবে তিনি যোগ করেন, যদি এই প্রকল্প সফল হয়, তবে তা প্রাকৃতিকভাবে নদীর ওপর চাপ কমাবে এবং রপ্তানির নতুন সুযোগ তৈরি করবে।

ডেনিশ দক্ষতা ও স্থানীয় উচ্চাকাঙ্ক্ষা

ডেনমার্কভিত্তিক অ্যাসেনটোফট অ্যাকুয়া লিমিটেড আরএএস প্রযুক্তিতে বিশ্বব্যাপী পরিচিত একটি প্রতিষ্ঠান। তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান মারিস্কো এপিএস ২০১৬ সাল থেকে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে মাছ চাষ প্রকল্পে কারিগরি সহায়তা দিয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি হ্যাচারি ডিজাইন, ব্রুডস্টক ব্যবস্থাপনা ও পূর্ণাঙ্গ আরএএস সল্যুশন সরবরাহ করে থাকে।

অ্যাসেনটোফট অ্যাকুয়ার ড. জেন্স ওলে ওলেসেন বলেন, ডেনিশ সরকারের গ্যারান্টিযুক্ত অর্থায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশে একটি আরএএস-ভিত্তিক মাছ চাষ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য আমরা প্রস্তুত। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের সঙ্গে অংশীদারিত্ব নিয়ে আমরা আশাবাদী।

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ দেশের অন্যতম বৃহৎ এগ্রো ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান। খাদ্য, কৃষি, ডেইরি, পানীয় ও রপ্তানিমুখী পণ্যে তাদের শক্ত অবস্থান রয়েছে। নতুন এই মৎস্য প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রুপটি উচ্চমূল্যের সামুদ্রিক মাছ উৎপাদন ও রপ্তানিতে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রাণের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াছ মৃধা।

অর্থ ও বাণিজ্য নিয়ে আরও পড়ুন



অনুসরণ করুন

logologologologologo

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on

Google Play

Download on the

App Store

সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুর রশীদ চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : শাহরীন তামান্নু চৌধুরী। বৃহত্তম কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত প্রথম দৈনিক। প্রকাশনার ৩৯ তম বর্ষ। মজমপুর, কুষ্টিয়া -৭০০০, মোবাইল : ০১৭১১-৮৬৪৯২৪, রেজিঃ নং-কে এন-২১৪

স্বত্ব © দৈনিক বাংলাদেশ বার্তা ২০২৬

ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।