সম্পাদকীয় ও মতামত
প্রতিবেদক: মোঃ সুজন হোসেন

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অর্থনৈতিক সংকট, মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব, নারী অধিকার প্রশ্নে আন্দোলন এবং সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সত্ত্বেও ইরানে এখনো বড় পরিসরের আরেকটি বিপ্লব সংঘটিত হয়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, একাধিক কাঠামোগত, রাজনৈতিক ও সামাজিক কারণের সমন্বয়েই ইরানে নতুন বিপ্লবের সম্ভাবনা এখনো বাস্তবে রূপ নিচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের অভিজ্ঞতা ইরানের রাষ্ট্রব্যবস্থাকে এমনভাবে গড়ে তুলেছে, যেখানে ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য শক্তিশালী নিরাপত্তা কাঠামো, রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও আদর্শিক প্রভাব একসঙ্গে কাজ করছে।
ইরানে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি), বাসিজ মিলিশিয়া ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর শক্ত অবস্থান সরকারবিরোধী আন্দোলনকে দ্রুত দমন করতে সক্ষম হচ্ছে। বড় ধরনের আন্দোলন শুরু হলেও তা সংগঠিত ও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আগেই নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আরেকটি বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির বিভক্তি। ইরানের ভেতরে ও বাইরে থাকা সরকারবিরোধী দলগুলোর মধ্যে নেতৃত্ব ও কৌশলগত ঐক্যের অভাব রয়েছে। স্পষ্ট বিকল্প নেতৃত্ব বা সম্মিলিত কর্মসূচি না থাকায় গণআন্দোলন বিপ্লবী রূপ নিতে পারছে না।
১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর দীর্ঘ যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও অভ্যন্তরীণ দমন-পীড়নের স্মৃতি এখনো ইরানি সমাজে প্রভাব ফেলছে। অনেক নাগরিক মনে করেন, আরেকটি বিপ্লব দেশকে আরও অনিশ্চয়তা ও সহিংসতার দিকে ঠেলে দিতে পারে। এই মানসিক ভয়ও বড় পরিবর্তনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
রাষ্ট্রীয় ধর্মীয় কাঠামো এখনো সমাজের একটি অংশের সমর্থন ধরে রাখতে সক্ষম। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত সামাজিক নেটওয়ার্ক সরকারের প্রতি একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির আনুগত্য বজায় রাখছে।
আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও বৈদেশিক চাপ সরকারকে দুর্বল করার পাশাপাশি জাতীয়তাবাদী আবেগও উসকে দেয়। অনেক সময় সরকার বিদেশি ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে অভ্যন্তরীণ আন্দোলনকে দমন করার যুক্তি তৈরি করতে সক্ষম হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে অসন্তোষ জমে থাকলেও তা এখনো এমন পর্যায়ে পৌঁছায়নি, যেখানে একটি সর্বাত্মক বিপ্লবের পরিবেশ তৈরি হয়। তবে তারা সতর্ক করে বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক সংকট ও সামাজিক চাপ অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি বদলাতেও পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুর রশীদ চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : শাহরীন তামান্নু চৌধুরী। বৃহত্তম কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত প্রথম দৈনিক। প্রকাশনার ৩৯ তম বর্ষ। মজমপুর, কুষ্টিয়া -৭০০০, মোবাইল : ০১৭১১-৮৬৪৯২৪, রেজিঃ নং-কে এন-২১৪
স্বত্ব © দৈনিক বাংলাদেশ বার্তা ২০২৬
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।